ZAKARIA HASAN
শহীদ ১৮ জুলাই ২০২৪ · বয়স ২৭ · Business
Killed
- Killed
- ১৮ জুলাই ২০২৪ (2024-07-18)
- Age
- ২৭ (27)
- Occupation
- Business
- How
- DEATH
- Father
- Akbar Ali Sheaikh
- Mother
- Jhorna Begum
জীবনী
জাকারিয়া হাসান, গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার মোল্লাবাড়ি গ্রামের এক অতি সাধারণ পরিবারে ১২ অক্টোবর ১৯৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আকবর আলী শেখ একজন ক্ষুদ্র চা বিক্রেতা, মা ঝর্ণা বেগম একজন গৃহিণী। অভাব-অনটনের সংসারে ছোটবেলা থেকেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন জাকারিয়া। পড়াশোনা করেছেন মুলগাঁও দাখিল মাদ্রাসায়, কিন্তু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেননি কখনো—সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ তাকে করেছে কর্মঠ, নম্র ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন।
ছোট ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কাপড়ের ছোট ব্যবসা চালাতেন উত্তরা রাজলক্ষ্মী কুশল সেন্টারে। পরিবারকে একটু ভালো রাখতে, সংসারে একটু স্বস্তি আনতে পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন অবিরাম। সদ্য বিবাহিত স্ত্রী পাপিয়া আক্তার শর্মী ছিলেন তার জীবনের নতুন আশার প্রতীক—নার্সিং পেশায় কর্মরত এই তরুণী স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু সে স্বপ্ন দীর্ঘ হয়নি।
১৮ আগস্ট ২০২৪, শুক্রবার বিকেল। রাজপথ উত্তপ্ত তখনও, আগের দিনের দমন-পীড়ন ছাপিয়ে উঠছে মানুষের ক্ষোভ। সেদিন জাকারিয়া নিজের দোকানে ছিলেন, কিন্তু আন্দোলনের আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ছিল আশেপাশে। হঠাৎ করেই পুলিশ ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের যৌথ বাহিনী আক্রমণ চালায় রাজলক্ষ্মী কুশল সেন্টার ও আশেপাশের এলাকাজুড়ে। নির্বিচারে গুলি বর্ষণে জাকারিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান তার দোকানের সামনেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হঠাৎ চালানো হয় প্রাণঘাতী হামলা। জাকারিয়াকে দ্রুত উত্তরা রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু ডাক্তাররা জানান, তিনি পথেই মারা গেছেন। মাত্র ২৫ দিনের বিবাহিত জীবনের অবসান ঘটে, স্ত্রী হারান তাঁর জীবনের ভরসা, আর পরিবার হারায় তাদের একমাত্র আশার আলো।
জাকারিয়ার নিথর দেহ ফেরত আসে গ্রামে। কালিগঞ্জের সেই মাটিতে, যেখানে তিনি বেড়ে উঠেছিলেন অনাহারে-অর্ধাহারে, সেখানেই তাকে শায়িত করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে। তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি জীবন থেমে যায়নি, স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎও।
বন্ধু মুনসুর আলী বলেন, “জাকারিয়া ভদ্র, শান্তশিষ্ট ও ধর্মপ্রাণ যুবক ছিলেন। সামাজিক কাজে সবসময় এগিয়ে আসতেন। তিনি শুধু ব্যবসায়ী ছিলেন না—তিনি ছিলেন একজন সৎ, দায়বদ্ধ মানুষ, যিনি সমাজের অন্যায় দেখে চুপ থাকতে পারতেন না।”
ঘটনার পটভূমি
২০২৪ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া ছাত্র ও সাধারণ জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক গণজাগরণে। দীর্ঘদিনের কোটানীতির বৈষম্য, প্রশাসনিক দুর্নীতি, এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নামেন। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার সেই ন্যায্য দাবি দমন করে স্বৈরাচারী কায়দায়।
১৮ আগস্ট ছিল সেই রক্তাক্ত ঘটনার একটি ভয়াবহ দিন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চালানো হয় সশস্ত্র আক্রমণ। জাকারিয়ার মৃত্যু হয়ে ওঠে সেই নিষ্ঠুর নির্যাতনের এক নীরব সাক্ষ্য।
আর্থিক প্রেক্ষাপট
জাকারিয়া ছিলেন পরিবারের আর্থিক ভরসা। বাবা চা বিক্রেতা, ভাই কোনোভাবে কয়লা ঘাটে কাজ করেন, মা ঘরের কাজ সামলান। নববধূ পাপিয়া আক্তার স্বামীর মৃত্যুর পর চরম মানসিক ভেঙে পড়েছেন, যদিও তিনি একজন প্রশিক্ষিত নার্স, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থান পাননি। জাকারিয়ার অকাল মৃত্যুতে তাদের মাথার ছাদ ভেঙে পড়েছে।
Photographs (1)
Compiled from the public JRABD (July Revolution Archive Bangladesh) memorial register.