Skip to the archive
July Diary
Search the archive
Portrait of মেহেরুন নেছা

মেহেরুন নেছা

শহীদ ৫ আগস্ট ২০২৪ · বয়স ২৩

Killed

Killed
৫ আগস্ট ২০২৪ (2024-08-05)
Age
২৩ (23)
How
DEATH

জীবনী

মেহেরুন্নেসা, অনার্স ৩য় বর্ষের এক ছাত্রী। মিরপুর ১৩-তে বাবা, মা ও একমাত্র ছোট ভাইকে নিয়ে থাকত। বাবা দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটিয়ে এখন দেশে ফিরে প্রাইভেট কার চালান। বেতন সামান্য, কিন্তু মেয়েকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন।

৫ আগস্ট ২০২৪, ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়েছে! মানুষ আর মানুষ! যেদিকেই তাকাই, শুধু আনন্দমাখা মুখ! এত মানুষের ভিড়ে মেহেরুন্নেসাই বা বাদ যাবে কেন? আন্দোলনে যোগ দিয়ে সোজা চলে গেল গণভবনে। আহা, কী আনন্দ তার, সবার!

গণভবন থেকে একগুচ্ছ ফুল নিয়ে এসেছে মায়ের জন্য। তখন বিকাল ৫টার মতো। তিন তলায় সিঁড়ি বেয়ে উঠে মাকে ডেকেই গলা জড়িয়ে ধরল, ফুল দিল। কিন্তু মা কাঁদতে কাঁদতে বকাঝকা করল।

মেহেরুন্নেসা হিজাব খুলে চুল বাঁধতে বাঁধতে মায়ের আতঙ্কিত কণ্ঠ শুনতে পেল— "বাইরে এখনো গুলির আওয়াজ আসছে!"

তার ছোট ভাইয়ের কথা মনে পড়ে গেল। মা-ও বলে উঠল— "ওর খবর নে!"

মেহেরুন্নেসা তাড়াতাড়ি ভাইকে ফোন দিল, সঙ্গে সঙ্গে জানালার গ্লাস সরিয়ে বাইরে তাকাল। জানালা থেকে দেখা যাচ্ছে কিছু পুলিশ, সঙ্গে গুলির আওয়াজ।

— "ভাইয়া, তুই কই? এখনই চলে আয়! ভিতরের রাস্তা দিয়ে আসিস, মেইন রোডে গুলি চলছে! এই নে, মার সাথে কথা বল।"

বলেই ফোনটা মায়ের হাতে দিয়ে সে জানালার বাইরে শঙ্কিত চোখে তাকাল।

"উহ্!"

একটা শব্দ বেরিয়ে এল তার মুখ থেকে। তারপর কেন যেন শরীরটা নিথর হয়ে দেয়ালে হেলে পড়ল।

মা চিৎকার করে উঠল— "ওরে! গুলি লেগেছে! মেহেরুন...!"

হাত থেকে ফোন পড়ে গেল। ফোনের ওপাশ থেকে ছোট ভাই সব শুনে ফেলেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবাকে ফোন দিয়ে বলল—

— "বাবা, বাসায় যাও! মেহেরুনের গায়ে গুলি লেগেছে!"

৫৫ বছর বয়সের ভার উপেক্ষা করে বাবা কত সেকেন্ডে তিন তলায় উঠে এসেছেন, তিনি নিজেও জানেন না।

মেহেরুন্নেসার বাম বুকে একটা বড় গুলি ঢুকে তার হৃৎপিণ্ড ঝাঝরা করে দিয়েছে। নিথর দেহ তুলতে গেলে মেয়ের রক্তে বাবার হাত, শার্ট, প্যান্ট—সব ভিজে গেল মুহূর্তে।

আলোক হাসপাতাল।

না, বাঁচেনি মেহেরুন্নেসা। চারদিকে আর্তনাদ, হাহাকার।

না, শুধু এই এক মেহেরুন্নেসা নয়— অসংখ্য মেহেরুন্নেসা...

Photographs (1)

Compiled from the public JRABD (July Revolution Archive Bangladesh) memorial register.