JABIR IBRAHIM
শহীদ ৫ আগস্ট ২০২৪ · বয়স ৬ · Student
Killed
- Killed
- ৫ আগস্ট ২০২৪ (2024-08-05)
- Age
- ৬ (6)
- Occupation
- Student
- Where
- Azampur, Uttara, Dhaka 1230
- How
- DEATH
- Father
- কবির হোসেন
- Mother
- রোকেয়া বেগম
- Buried at
- ৪ নং সেক্টর কবরস্থান
জীবনী
শিশু জাবির শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী তথা কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিতে চেয়েছিল। প্রতিদিন সে মাকে বলত, “আম্মু, আমি আন্দোলনে যাব।” আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ এবং সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালাতে থাকে। টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর খবরগুলো দেখে জাবিরের পরিবার মর্মাহত হয়। একপর্যায়ে জাবিরের মা সিদ্ধান্ত নেন—পরিবারের সবাই মিলে শিক্ষার্থীদের লংমার্চে অংশ নেবেন।
তাদের প্রস্তুতির কিছুক্ষণ পরই তারা শুনতে পান, স্বৈরাচারী সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। এই খবরে উত্তরের আকাশজুড়ে বিজয়ের উল্লাস শুরু হয়—মানুষ রাস্তায় নেমে আসে বিজয় মিছিলে অংশ নিতে।
মিছিলে ভিড় ছিল ব্যাপক, তাই প্রথমে জাবিরের মা ছেলেকে সঙ্গে নিতে চাননি। কিন্তু জাবিরের জেদ আর আবদারের কাছে হার মেনে, শেষ পর্যন্ত মা-বাবা তাকে নিয়েই উত্তরার জসীমউদ্দীন সড়কে বিজয় মিছিল দেখতে যান। জাবিরের মা ফোন করে তার বাবাকেও সেখানে আসতে বলেন। পরিবারের আরও সদস্যদের মধ্যে ছিলেন জাবিরের চাচা, আইনজীবী নাজমুল হোসেন, যিনি জানান—৫ আগস্ট বিকেলে উত্তরা পূর্ব থানা ঘেরাওয়ের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়, এবং কিছুক্ষণ পর পুলিশ পাল্টা গুলি ছুঁড়তে শুরু করে।
জাবিরের মা জানান, সেদিন বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের বাইতুস সালাম মাদ্রাসার গেট থেকে পূর্ব থানার এপিবিএন অফিসের দিক থেকে পুলিশ হঠাৎ গুলি চালাতে শুরু করে। গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে মা-বাবা মিলে জাবিরের হাত ধরে দৌড় দেন নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য। দৌড়াতে গিয়ে হঠাৎ জাবির রাস্তার ওপর পড়ে যায়। তখনো বাবার হাত ধরে ছিল সে। বাবা তাড়াতাড়ি ফিরে গিয়ে দেখেন, মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে জাবির। তার উরুতে গুলি লেগেছে, এবং রক্তে ভেসে যাচ্ছে তার শরীর ও প্যান্ট।
তড়িঘড়ি করে তাকে কোলে তুলে কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক দ্রুত রক্ত দেওয়ার নির্দেশ দেন। রক্ত সংগ্রহ করলেও ক্রস-ম্যাচিংয়ের অভাবে চিকিৎসা বিলম্বিত হয়। অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে মাত্র ছয় বছর বয়সে শহীদ হন শিশু জাবির ইব্রাহিম।
পরদিন তাকে দাফন করা হয় উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের নিকটবর্তী কবরস্থানে।
শহীদ জাবির আজ শুধুই একটি নাম নয়, বরং শিশু বয়সেই স্বাধীনতা, ন্যায়ের সংগ্রাম এবং একটি নতুন ভোরের স্বপ্নে আত্মোৎসর্গের প্রতীক।
Photographs (1)
Compiled from the public JRABD (July Revolution Archive Bangladesh) memorial register.