Skip to the archive
July Diary
Search the archive
Portrait of Shahariar Khan Aanas

Shahariar Khan Aanas

শহীদ ৫ আগস্ট ২০২৪ · বয়স ১৭ · Student

Killed

Killed
৫ আগস্ট ২০২৪ (2024-08-05)
Age
১৭ (17)
Occupation
Student
Studied at
Adarsha Academy, Gandaria
Where
Chankharpul, Dhaka
How
DEATH
Father
Shahria Khan Palash
Mother
সানজিদা খান দীপ্তি
Buried at
জুরাইন

জীবনী

এই হৃদয়বিদারক গল্পটি বাস্তব একটি শহীদের আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও নিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিচ্ছবি। এটি একটি শক্তিশালী দলিল, যা শুধু একজন কিশোরের নয়, বরং পুরো প্রজন্মের অধিকারবোধ ও দেশপ্রেমের মূর্ত প্রতীক। আপনি যেভাবে শহীদ আনাসের জীবন, ভাবনা, আত্মত্যাগ ও পারিবারিক আবেগ তুলে ধরেছেন, তা পাঠকের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করবে।

এই লেখাটি ইতোমধ্যেই শক্তিশালী, তবে যদি আপনি চান আমি এটিকে আরও মানবিক ও সাহিত্যের রঙে গল্প বলার মতো করে উপস্থাপন করি—সংবেদনশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ ভাষায়—তবে আমি সেটি করে দিতে পারি।

আপনি কি চান আমি এটি পুনর্লিখি যেন এটা স্মৃতিচারণধর্মী, বর্ণনামূলক এবং অন্তিম আবেগে পূর্ণ একটি শহীদের গল্প হয়ে উঠে?

উদাহরণ:

---

**শহীদের নাম: শাহরিয়ার খান আনাস**

**বয়স: ১৬ বছর**

**স্থান: গেন্ডারিয়া, ঢাকা**

**বিদ্যালয়: আদর্শ একাডেমি, বিজ্ঞান বিভাগ, দশম শ্রেণি**

**শাহাদাত: ৫ আগস্ট ২০২৪, কোটা সংস্কার আন্দোলন**

সেদিন ছিলো ৫ আগস্ট, ২০২৪। ঢাকায় সকালটা অন্যরকম ভোর নিয়ে এসেছিল। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল সংগ্রামের গন্ধ। রাষ্ট্রের অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনতা রাস্তায় নেমে এসেছিল; আর আনাস, এক কোমলবয়সী কিশোর, সে-ও চুপিচুপি প্রস্তুতি নিচ্ছিলো নিজের লড়াইয়ের জন্য।

তার বয়স মাত্র ১৬। কিন্তু বুক ভরা স্বপ্ন, চোখে দেশের জন্য ভালোবাসা আর অন্যায়ের প্রতি ক্ষোভ তাকে ঘরবন্দী রাখতে পারেনি। বাবা-মাকে কিছু না বলে স্কুল ব্যাগে জামা-কাপড় আর কিছু ওষুধ গুঁজে বেরিয়ে পড়েছিল সেই সকালবেলায়। উদ্দেশ্য—একটাই—ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে ন্যায়ের উপর দাঁড় করানো।

ঘর থেকে বের হওয়ার আগে আনাস বাবা-মায়ের জন্য লিখে রেখে গিয়েছিল একটি চিঠি—ছোট, কিন্তু পৃথিবীর সব চিঠিকে হার মানানো এক আবেগঘন অঙ্গীকার। সেই চিঠিতে সে লিখেছিল:

*"আমি নিজেকে আর আটকাতে পারলাম না... ভাইয়েরা রাজপথে লড়ছে, আমি কেন ঘরে থাকব? মরতেই তো হবে একদিন—তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গুলি খেয়ে মারা যাওয়া অনেক বেশি গর্বের।"*

তাঁতিবাজার, চাঁনখারপুল, শাহবাগ, মিটফোর্ড—আনাসের শেষ পথচলার মানচিত্র হয়ে উঠেছিলো আন্দোলনের প্রহরারেখা। কিন্তু শেষমেশ এক চিপা গলিতে, এক দোকানের শাটারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই কিশোরটিকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। কোনো কথা নয়, কোনো সুযোগ নয়—ক্লোজ রেঞ্জ থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি। দোকানের শাটারে লাগে প্রথম গুলি, দ্বিতীয় গুলি বিদ্ধ হয় আনাসের বুকে।

পড়ে যায় সে। পড়ে থাকে রক্তাক্ত, নিঃশব্দে। কয়েক কদম হেঁটে তারপর নিথর...

আনাসকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। আর ফিরবে না সে, আর বলবে না—“মা, দেখো আমি ফিরে এসেছি।”

মা সানজিদা খান দীপ্তি আর বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ ছুটে আসেন। স্ট্রেচারে মোড়ানো বাংলাদেশের পতাকায় ঢাকা তাদের একমাত্র ছেলেটির নিথর দেহ। সেদিন হাসপাতালের বারান্দায় শুধু একটাই প্রশ্ন ছিল—“আমার ছেলেটা কী দোষ করেছিল?”

Photographs (1)

Compiled from the public JRABD (July Revolution Archive Bangladesh) memorial register.