Jabir Ibrahim
শহীদ ৫ আগস্ট ২০২৪ · বয়স ৬ · Student
Killed
- Killed
- ৫ আগস্ট ২০২৪ (2024-08-05)
- Age
- ৬ (6)
- Occupation
- Student
- Studied at
- KC Model School
- Where
- Rajlaxmi, Uttara, Dhaka 1230
- How
- DEATH
- Father
- কবির হোসাইন
- Mother
- রোকেয়া বেগম
- Buried at
- ৪ নং সেক্টর কবরস্থান
জীবনী
গোলাগুলি শুরু হলে মনে হচ্ছিল আতশবাজি ফোটানো হচ্ছে। তখন তিনি (জাবিরের বাবা) বাচ্চাটার হাত ধরে সামনের দিকে দৌড় দেন। আমি কিছুটা পেছনে পড়ে যাই। দৌড়াতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে যায় জাবির। তখনো জাবিরের হাত ধরে ছিল ওর বাবা। দৌড়ে এসে দেখি, রাস্তায় পড়ে আছে জাবির। ওর ঊরুতে গুলি লেগেছে। রক্তে প্যান্টসহ শরীর ভেসে যাচ্ছে।
—রোকেয়া বেগম, নিহত জাবিরের মা।
দেখি জাবিরের ঊরুতে গুলি লেগেছে। ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। রক্তে শরীর ভিজে গেছে বাচ্চাটার। ওর বাবা ওকে কোলে নিয়ে দৌড়াতে লাগলেন। পরে আমি ওকে কোলে তুলে নিই। ছুটে যাই হাসপাতালে। কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচাতে পারিনি ওকে’—কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন মা রোকেয়া বেগম।
গুলিতে নিহত জাবিরের মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘জাবিরের বাবার কষ্টটা বেশি। মৃত্যুর আগে জাবির তাঁর হাতেই ছিল। কিন্তু ছেলের জন্য কিছুই করতে পারলেন না।’
৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ চলাকালে মা–বাবার সঙ্গে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা জাবিরের ঊরুতে গুলি লাগে থানা থেকে করা গুলি এসে লাগে। শিশুটির পুরো নাম জাবির ইব্রাহিম। বয়স ৬ বছর। মা-বাবার সঙ্গে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার পশ্চিম মোল্লারটেকে থাকত সে। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে পড়ত। দুই ভাই আর এক বোনের মধ্যে জাবির সবার ছোট। বাবা কবির হোসেন রাজধানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
রক্তাক্ত সন্তানকে কোলে তুলে নিয়ে দৌড়ে পাশের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয় শিশুটিকে। একই সময় গুলিতে আহত ৯৬ জন ওই হাসপাতালে এসেছেন বলে হাসপাতালে কর্মরতরা বলছিলেন। চিকিৎসক রক্ত দিতে বলেন। কিন্তু সেই হাসপাতালে রক্ত জোগাড় করা হলেও ক্রস ম্যাচের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য জাবিরকে দ্রুত উত্তরার আরেকটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অন্য আরেকটি হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানকার চিকিৎসক জাবিরকে মৃত ঘোষণা করেন—জানালেন রোকেয়া বেগম।
রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমি তো সন্তানের মা। আমি বিএনপি করি না, আওয়ামী লীগও করি না। এতগুলা বাচ্চা মারা গেল, সহমর্মিতা জানাতে রাস্তায় গিয়েছিলাম। যৌক্তিক দাবি মেনে নিলে এই পরিস্থিতি হতো না। বাচ্চারাও মারা যেত না। কেন নিরস্ত্র বাচ্চাগুলোকে মরতে হলো। প্রতিটি মুহূর্ত এ নিয়ে ভাবতে কষ্ট হয়। আমার মতো বাচ্চাদের হারিয়ে অন্য মায়েরা কত কষ্টে দিন পার করছেন, তা আমি জানি। আমি শুধু জাবির ইব্রাহিমের মা নই, প্রতিটি বাচ্চার মা। আমি একজন মা হয়ে প্রতিটি বাচ্চার হত্যার বিচার চাই।’
‘প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে জাবির আমাকে আর ওর বাবাকে জড়িয়ে ধরত। বলত, “আম্মু, এত সকালে ওঠো কেন?” কিছুদিন ধরে সকালে গুঁড়া দুধ খেত জাবির। যেদিন মারা গেল, সেদিনও খেয়েছিল। ওকে ভোলার মতো নয়। প্রতিটি সেকেন্ডে ওর স্মৃতি মনে পড়ে’—সন্তানের স্মৃতি হাতড়ে বলছিলেন মা রোকেয়া বেগম। সন্তান হত্যার অপরাধে আওয়ামী লীগ সরকার আর পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলেও জানান তিনি।
Photographs (1)
Compiled from the public JRABD (July Revolution Archive Bangladesh) memorial register.