Abdullah Al Mahin
শহীদ ৪ আগস্ট ২০২৪ · বয়স ১৬ · Student
Killed
- Killed
- ৪ আগস্ট ২০২৪ (2024-08-04)
- Age
- ১৬ (16)
- Occupation
- Student
- Studied at
- Diabari Model School
- Where
- Azampur, Uttara, Dhaka 1230
- How
- DEATH
- Father
- Jamil Hossain Sohel
জীবনী
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানী উত্তরার রাজপথে আওয়ামী, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, পুলিশ ও দুর্বৃত্তের গুলিতে শহিদ হন মেধাবী কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহিন । তার আনুমানিক বয়স ১৭ বছর। শহিদ মাহিন রাজধানী পান্থপথ কম্পিউটার সাইন্স এ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইইটি) ২০২৪ সেশনের বিঞ্জান বিভাগের প্রথম বর্ষের অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী ছিল।
উত্তরায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে শতাধিক ছাত্র-জনতা ও পথচারীগুলিবিদ্বসহ আহত হয়েছেন। তার মধ্যে এখনও অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচেছন। তবে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে মাহিনের শহিদি মর্যাদা চান তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
জানা গেছে, বর্তমান সরকারের নিকট শহিদ শিক্ষার্থী মাহিনের পরিবার আর্তি, আমরা আর কিছু চাই না, আমার ছেলের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ডিয়াবাড়ী মডেল হাইস্কুলের পাশে খাস জমির উপর একটি মাত্র লাইব্রেরি চাই। যার নাম করন করা হউক “শহিদ আব্দুল্লাহ আল মাহিন” লাইব্রেরী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার দিন গত ৪ আগস্ট, ২০২৪ সকাল ১১ টার দিকে তুরাগের ডিয়াবাড়ীর এলাকার আসাদ মিয়ার ভাড়াটিয়া বাড়ির নিচ তলার বাসা থেকে মিছিলের উদ্দেশ্যে বের হয় মাহিন সহ তার কয়েকজন বন্ধু। কিন্তু তার সহপাঠীরা রাজপথে মিছিল করে একেএকে যে যার মত নিজ নিজ বাসায় রাতে ফিরলেও মাহিন বাসায় ফিরেছে লাশ হয়ে । বাসা থেকে আসার সময় দূরসম্পর্ক্য নানু আলমঙ্গীরকে মাহিন বলেছিল ” নানা, তুমি মিছিলে এসো, আমি একটু আগে যাই”। আর আসার আগে মাকে বলে আসছিল, আম্মুু আমি মিছিলে যাই। তুমি কোন চিন্তা কর না, প্রতিদিনের মত বন্ধুদের সাথে যাব আর আসব। এটাই ছিল তার জীবনের শেষ কথা।
তুরাগের ডিয়া বাড়ি ভাড়াটে বাসায় সরেজমিন পরিদর্শন ও নিহত শহিদের পরিবারের সাথে আলাপ করে জানা গেল সেই দিনের ঘটনা, ২০২৪ সালে তুরাগের ডিয়াবাড়ি মডেল হাইস্কুল বিঞ্জান বিভাগ থেকে (চলতি বছর) সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে এ গ্রেড পেয়ে কৃতিত্বের সাথে পাস করেছেন আব্দুল্লাহ আল মাহিন । ছাত্রদের কোটা আন্দোলন- চলাকালে মাহিন ঘটনার দিন গত ৪ আগস্ট, ২০২৪ সকাল ১১ টার তার স্কুল ও কলেজ বন্ধুদের সাথে উত্তরায় কোটা আন্দোলন চলাকালে উত্তরা আজমপুর আমির কমপ্লেক্সে এর সামনে ওভারব্রীজ এর পাশে রাজপথে সম্মুখ যুদ্বে নেমে পড়েন। তখন চার দিকে শুধু মুহু গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
এরপর তার বামচোখে ও ঘাঁড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক দিন একাধিক হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে অবশেষে মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়েন মাহিন । তার আশা ছিল ভবিষ্যৎতে কম্পিউটার ইঞ্জিয়ার হওয়া। তার সেই আশা পূরণ হবার আগেই দুনিয়া থেকে চিরদিনের মত না ফেরার দেশে চলে যেতে হয়েছে তাকে । শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহিনের অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার ও সহপাঠীরা। ইতিমধ্যে শহিদ মাহিনের জন্য নিহতের পরিবার ও ডিয়াবাড়ি মডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তার বিদ্রোহী আত্নার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়াও মোনাজাত করা হয়। সেই দিনের বীরত্বগাঁথা বিশেষ প্রতিবেদনটি লিখেছেন বাসস’র ঢাকা উত্তর নিজস্ব সংবাদদাতা এস, এম, মনির হোসেন জীবন।
সরেজমিন ও তথ্য অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, ময়মনসিংহ জেলার কোতয়ালী (সদর থানা) ৬৩/ বি পুরহীত পাড়া ময়মনসিংহের বাসিন্দা এবং প্রবাসী মো: জামিল হোসেন সোহেল ও সামিরা জাহান মণি’র এক মাত্র আদরের পুত্র হল আব্দুল্লাহ আল মাহিন । বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) রোড নং ২/ এ, হোল্ডিং নং- ৬, সাবেক ৫ নং ওয়ার্ড সাবেক হরিরামপুর ইউনিয়ন ডিয়াবাড়ী তুরাগ থানা তুরাগ এলাকায় সপরিবারে বসবাস করে আসছিল তারা।
ঘটনার বিবরণ জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট, ২০২৪ ইং তারিখে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যখন ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলছিল। ঠিক তখন আব্দুল্লাহ আল মাহিন তার স্কুল- কলেজ বন্ধুদের সাথে প্রতিদিন মিছিলে অংশ নিতো। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার আজমপুর আমির কমপ্লেক্সের উত্তর পাশে ওভারব্রিজ সংলগ্ন আওলামীগের প্রভাবশালী কতিপয় নেতার নির্দেশে মিছিলকারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যকরে গুলি ছুড়া হয়। এসময় শিক্ষার্থী ও মিছিলকারী (উভয় পক্ষের মধ্যে) দফায় দফায় চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। চলে মুহুমুহু গুলি, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সূত্র গুলো বলছে, ঘটনার দিন উত্তরার আজমপুর, রাজলক্ষ্মী মার্কেট, রাজউক মার্কেট, বিএনএস সেন্টার, আমির কমিরকমপ্লেস, জমজম টাওয়ার, নর্থ টাওয়ার, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ, আব্দুল্লাহপুর ও জসিম উদ্দিন রোড এলাকায় পুলিশের সাথে সাদা পোষাকের কয়েকজন অস্ত্রধারীকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। বেশ কিছু ককটেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেট ও বিস্ফোরিত হয়। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি শুরু করে। পরে তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এভাবে অনেক্ষণ চলতে থাকে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অনেকে অলিগলিতে ঢুকে পড়লে সেখানেও খুঁজে বের করে হামলা করা হয়।
Photographs (1)
Compiled from the public JRABD (July Revolution Archive Bangladesh) memorial register.