Skip to the archive
July Diary
Search the archive
Portrait of Abdur Kader Manik

Abdur Kader Manik

শহীদ ৫ আগস্ট ২০২৪ · বয়স ৪৫ · Private Job Holder

Killed

Killed
৫ আগস্ট ২০২৪ (2024-08-05)
Age
৪৫ (45)
Occupation
Private Job Holder
Where
Uttara East Thana, Azampur, Uttara, Dhaka 1230
How
DEATH

জীবনী

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার সামনে বিজয় মিছিলে গিয়ে শহিদ হন বিক্রয়কর্মী আবদুল কাদির মানিক (৪৩)। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব মানিকরাজ গ্রামের বাইনের বাড়ির মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। গুলিতে মানিকের মাথার একাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেছেন শহিদ মানিকের পরিবার।

ফরিদগঞ্জ চান্দ্রা সড়কের পাশে শহিদ মানিকদের গ্রাম। আধা-পাকা সড়ক দিয়ে যেতে হয় তার বাড়িতে। বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। বাড়িতে থাকেন মানিকের মা, স্ত্রী ও সন্তানরা। শহিদ মানিক পেশায় একজন বিক্রয়কর্মী। বেশ কয়েক বছর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। সর্বশেষ রাজধানীর উত্তরা দিয়া বাড়ী শাহী স্ট্রীল নামের প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মানিক তাদের গ্রাম মানিকরাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি ও স্থানীয় চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। এরপর আর অভাব অনটনের কারণে লেখাপড়া করতে পারেনি।

স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে মানিকের বাবা নুর মোহাম্মদ ১২ বছর আগে মারা গেছেন। তিনি পেশায় ছিলেন কৃষক। মানিকের ৫ ভাই ও ৩ বোন। ভাইবোনদের মধ্যে মানিক তৃতীয়।

মানিকের মা ফাতেমা বেগম (৭০) বলেন, গুলিতে আমার ছেলের মাথার একাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমার ভদ্র শান্তশিষ্ঠ ছেলে আন্দোলনে গিয়ে গুলি খেয়ে মরলো। ছেলে আমার ছুটি পেলে বাড়িতে আসত। সর্বশেষ গত ঈদুল আজহার ছুটিতে এসে ১২দিন বাড়িতে ছিল। এরপর কর্মস্থলে চলে যায়। ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আমার সাথে কথা হয় ফোনে। আমার শারিরীক অবস্থার খোঁজ খবর নিত। ওই দিন কি কারণে আমার ছেলে ফোনে বার বার বলেছে মা আমার ছেলেকে দেখে রাইখেন। এরপর আর কথা হয়নি ছেলের সাথে। এখন এই অবুঝ সন্তানদের কি হবে বলে কাঁদতে থাকেন তিনি।

মানিকের মেয়ে জোহরা ও জান্নাতুল মাওয়া বলেন, বাবা আমাদের সাথে প্রায় দিনই কথা বলতেন। পড়ার জন্য বলতেন। বলতেন আমরা যেন মায়ের কথা শুনি। এই দুই অবুঝ শিশুর সাথে কথা বলে বুঝা গেল তারা এখনো বাবার শূন্যতা অনুভব করতে পারেনি। একমাত্র ছেলে মোস্তাকিম ওই সময় ঘুমিয়েছিলো।

মানিকের স্ত্রী রাহিমা আক্তার (২৮) কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী খুব ভদ্র ও বিনয়ী ছিলেন। ৫ আগস্ট মোবাইল ফোনে সকাল সাড়ে ৭টায় একবার এবং ১০টায় আরেকবার কথা হয় স্বামীর সাথে। ১০টায় ফোন দিয়ে তিনি বলেন বিকাশে ২ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন, উঠিয়ে যেন বিদ্যুত বিল পরিশোধ করি। এরপর আর কথা হয়নি। বিকাল ৩টার দিকে খবর পান তিনি উত্তরা পূর্ব থানার সামনে বিজয় মিছিলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা গেছেন। ৬ আগষ্ট ভোরে ওই এলাকার লোকজন তার লাশ গাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

Photographs (1)

Compiled from the public JRABD (July Revolution Archive Bangladesh) memorial register.