Sheikh Fahmin Zafar
শহীদ ১৮ জুলাই ২০২৪ · বয়স ১৮ · Student
Killed
- Killed
- ১৮ জুলাই ২০২৪ (2024-07-18)
- Age
- ১৮ (18)
- Occupation
- Student
- Studied at
- Tongi Govt. College
- Where
- Azampur, Uttara, Dhaka 1230
- How
- DEATH
- Father
- শেখ আবু জাফর
- Mother
- কাজী লুলুল মাখমিন
- Buried at
- তারাটিয়া,নওগাঁ
জীবনী
৮ জুলাই ২০২৪, বৃহস্পতিবার। ঢাকার দক্ষিণখানের গাওয়াইর মাদ্রাসা রোডের একটি ভাড়া বাসায় দুপুরের খাবার রান্না করছিলেন মিসেস লুলুল মাখমিন। তিনি সেখানে থাকেন বড় দুই ছেলে ফারহান ও ফাহমিনকে নিয়ে। তার স্বামী আবু জাফর চাকরির সুবাদে ছোট ছেলে ফারদিনকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীতে থাকেন। ফারদিন সেখানকার গজক কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। বড় ছেলে ফারহান বিবিএ করছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে, আর মেজ ছেলে ফাহমিন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র, টঙ্গী সরকারি কলেজে।
১১ জুলাই ফাহমিনের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়। এরপর ১৮ জুলাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির দিন, তিনি সাহসিকতার সঙ্গে যোগ দেন উত্তরা আজমপুরে চলমান আন্দোলনে। সকাল থেকে পুলিশ এবং যুবলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর শুরু করে বর্বর হামলা—টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলিবর্ষণে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ।
সেই দিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার আগে ফাহমিন মায়ের কাছে দোয়া চান—যেন সফলভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন। মা লুলুল মাখমিনের মন অজানা আশঙ্কায় অস্থির হয়ে উঠলেও ছেলের ন্যায়ের লড়াইয়ের ইচ্ছাকে থামাননি। বরং বিদায় দেওয়ার সময় বলে দেন, দুপুরে যেন ঠিক সময়ে বাসায় ফিরে খেয়ে নেয়। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর ফুরায় না।
ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ যখন এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে, তখন ফাহমিন দৌড়াতে গিয়ে ছররা গুলিতে আক্রান্ত হন—ডান হাতের পেছন দিকে, পিঠ বরাবর। তিনি লুটিয়ে পড়েন রাজউক মার্কেটের সিঁড়িতে। প্রতিবাদী সহযোদ্ধারা তাকে দ্রুত উত্তরা রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যান।
অন্যদিকে বাসায় তখন ভীষণ অস্থির সময় কাটাচ্ছিলেন তার মা। দুপুর পার হয়ে বিকেল হলেও কোনো ছেলেরই খোঁজ নেই। ঠিক তখনই খবর আসে—ফাহমিন হাসপাতালে ভর্তি। মা ছুটে যান হাসপাতালে, আর গিয়ে দেখেন ছেলের রক্তে ভেজা নিথর দেহ। মূহূর্তেই জ্ঞান হারান তিনি। চিকিৎসক জানান, ফাহমিন আর নেই।
ফাহমিনের মৃত্যু শুধু তার মায়ের কোলকেই খালি করেনি, থেমে গেছে আরেকটি সম্ভাবনাময় জীবনের গল্প—ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন।
পরদিন, জ্ঞান ফিরে আসার পর মিসেস লুলুল মাখমিন ছেলের মরদেহ নিয়ে রওনা দেন নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার তারাটিয়া গ্রামে। সেখানে জানাজা শেষে ফাহমিনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আজও মায়ের চোখে অশ্রু, মনে বেজে চলে ছেলের শেষ কথাগুলো—
"আমি যদি মারা যাই, আমার লাশ রাজপথে ফেলে রেখো। যখন আমাদের দাবি আদায় হবে, তখন দাফন করো। অনেকেই শহীদ হবে, অনেক মা তোমার পাশে থাকবে—ভয় পেও না মা।”
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে উত্তরা আজমপুরে আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে শহীদ হন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁর তারাটিয়া গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
Photographs (1)
Compiled from the public JRABD (July Revolution Archive Bangladesh) memorial register.