আব্দুর রহমান
শহীদ ২১ জুলাই ২০২৪ · দিনমজুর
Killed
- Killed
- ২১ জুলাই ২০২৪ (2024-07-21)
- Occupation
- দিনমজুর
- Where
- সিকদার পাম্প, দেলপাড়া, ভুইগর, নারায়ণগঞ্জ
- Village
- ভোঘাড়ী
- Thana
- ফতুল্লা
- District
- নারায়ণগঞ্জ জন্ম
- Division
- ঢাকা
জীবনী
বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় স্বৈরাচার পতনের ছাত্রজনতার গণ-আন্দোলনে, এই আন্দোলন দমনোর জন্য খুনি হাসিনা গণহত্যা চালায়। এই গণহত্যায় বাদ যায়নি শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই। তেমনই একজন শহীদ ৬৬ বছরের বৃদ্ধ দিনমজুর আব্দুর রহমান। তাঁর জন্ম চাঁদপুরে, ১৯৫৮ সালের ১ জানুয়ারি। পিতার নাম মৃত হাসান দেওয়ান। মায়ের নাম মৃত সাহেরা বেগম। জন্মস্থান চাঁদপুর হলেও তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার কুতুবপুরের ভোঘাড়ী গ্রামে। করতেন দিনমজুরের কাজ। শহীদের দুই ছেলে এবং এক মেয়ে থাকলেও তারা বিবাহিত জীবনে গড়েছে আলাদা সংসার। মেয়ে রয়েছেন শ্বশুরবাড়িতে। ফলে বৃদ্ধ আব্দুর রহমান স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা থাকতেন। ছোট্ট একটা বাসা ভাড়া করে স্ত্রীকে নিয়ে কোনোরকম জীবনযাপন করতেন। স্বামী-স্ত্রীর সংসার চালাতেন দিনমজুরের কাজ করে। বৃদ্ধ স্ত্রী একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
যেভাবে শহীদ হলেন আব্দুর রহমান
ঘটনার দিন ২১ শে জুলাই ২০২৪। ছাত্র আন্দোলন দমাতে ইতোমধ্যে সারাদেশে চলছে কড়া কারফিউ। অন্যদিকে কারফিউ ভঙ্গ করে ছাত্র জনতা নেমেছে রাস্তায়। ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে আব্দুর রহমান নারায়ণগঞ্জের ভুইগর এলাকার সিকদার পাম্পের সামনে হাজারো ছাত্র জনতার সাথে সমবেত হন। হঠাৎ মাথার উপর দিয়ে বিকট শব্দে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টার থেকে একটা গুলি এসে আব্দুর রহমানের বুকের বামপাশ দিয়ে প্রবেশ করে শরীর এফোঁড়ওফোঁড় করে পিঠের দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে শাহাদাতবরণ করেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে তাকে দাফন করা হয়।
আব্দুর রহমানের সংগ্রামী জীবন
জন্মের পর থেকেই সংগ্রাম করে বড় হয়েছেন আব্দুর রহমান। জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য এমন কোনো কাজ নেই, যা তিনি করেননি। বহু কষ্টে স্ত্রীকে নিয়ে তিন সন্তানকে বড় করেছেন, মানুষ করেছেন। বড় দুই ছেলে মো: ফয়সাল (৩২) ও মো: রনি (২৬) বিবাহিত জীবনে প্রবেশের পর আলাদা সংসার গড়েছে। একমাত্র মেয়ে বৃষ্টি বেগমকেও (২২) বিয়ে দিয়েছেন। এ পর্যন্ত আসতে তাকে করতে হয়েছে বহু সংগ্রাম। ছেলেরা ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে চাইলেও শরীরে শক্তি থাকতে তিনি বোঝা হয়ে থাকতে চাননি। তাইতো স্ত্রীকে নিয়ে এই বয়সেও থাকতেন আলাদা বাসায়। করতেন দিনমজুরের সংগ্রামী কাজ। এমন এক আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিকেও ছেড়ে দেয়নি খুনি হাসিনা। বুলেটের আঘাতে তার বুক করে দিয়েছে এফোঁড়ওফোঁড়। বটবৃক্ষের মতো ছায়া দেওয়া বাবাকে হারিয়ে শোকাহত সন্তানেরা। চিরজীবনের সঙ্গীকে হারিয়ে মর্মাহত স্ত্রী। পিতৃহত্যার দায়ে ক্ষমতালোভী খুনি হাসিনার বিচার চান তারা।
একনজরে শহীদ আব্দুর রহমান
নাম : আব্দুর রহমান
জন্ম তারিখ : ০১.০১.১৯৫৮
পিতা : মৃত হাসান দেওয়ান
মাতা : মৃত সাহেরা বেগম
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: ভোঘাড়ী, ইউনিয়ন: কুতুবপুর, থানা: ফতুল্লা, জেলা: নারায়ণগঞ্জ
জন্ম জেলা : চাঁদপুর
পেশা : দিনমজুর
শহীদ হওয়ার স্থান : সিকদার পাম্প, দেলপাড়া, ভুইগর, নারায়ণগঞ্জ
হত্যাকারী : পুলিশ ও র্যাব
আঘাতের ধরন : বুকে গুলিবিদ্ধ
শাহাদাতের তারিখ ও সময় : ২১ জুলাই ২০২৪ দুপুর ১২টা
কবরস্থান : নিজ জেলা চাঁদপুরে
শহীদ পরিবারের প্রতি সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
১. শহীদের স্ত্রীর জন্য একটি স্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে দেওয়া
২. স্ত্রীর জন্য নিয়মিত মাসিক আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজনকুরআনের আয়াততারা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও সন্তুষ্টি লাভ করবে এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাত। (সুরা আল-ইমরান ৩:১৫)হাদীস শরীফহজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হতে চায়, আল্লাহ তাকে শহীদের সাওয়াব দেন।” (সহীহ মুসলিম ১৮৮৮)
Photographs (3)
Compiled from the public July Sohid memorial register.