জসিম
শহীদ ৫ আগস্ট ২০২৪ · বয়স ৪১ · রিকশা চালক (ভাঁড়ায় চালিত)
Killed
- Killed
- ৫ আগস্ট ২০২৪ (2024-08-05)
- Age
- ৪১ (41)
- Occupation
- রিকশা চালক (ভাঁড়ায় চালিত)
- Studied at
- বাইতুন নূর মাদ্রাসা ৩.
- Where
- উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, ঢাকা
- How
- DEATH
- Father
- মরহুম আবুল কাশেম
- Mother
- সুরুজ বানু
- Village
- পশ্চিম মোল্লারটেক, আশকোনা
- Thana
- দক্ষিণখান
- District
- ঢাকা স্থায়ী
- Division
- ঢাকা সিটি
- Buried at
- নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে
জীবনী
শহীদ জসীম ১৯৮২ সালের ১ মার্চ শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার মাটিয়াকুড়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আবুল কাশেম, মাতা সুরুজ বানু। ছোটবেলা থেকে সংসারের কষ্ট দেখে বড় হয়েছেন। বিয়ের পর জীবীকার তাগিদে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে উত্তরার নিকটবর্তী দক্ষিণখান পশ্চিম মোল্লারটেক এলাকায় একটি টিনের বাসায় এক রুম ভাড়া নিয়ে পরিবারকে নিয়ে বেঁধেছিলেন সুখের সংসার। জসীমের মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। দুর্ঘটনাজনিত কারণে ভাঙ্গা পা নিয়েই পর নির্ভরশীল হয়ে জীবনযাপন করছেন।
শাহাদাতের পূর্বে শহীদ জসীম পেশায় একজন রিকশা চালক ছিলেন। ভাঁড়ায় রিকশা চালিয়ে দুই পরিবারের ভরণপোষণ ও মায়ের চিকিৎসা খরচ মেরাতেন। পরিবারের সদস্য নয় জন। প্রথম স্ত্রী উশেদা বেগমের সংসারে রয়েছে মো: রাসেল মিয়া(২৮) ও আকাশ মিয়া(২৫) নামে দুইটি ছেলে সন্তান। তারা পেশায় শ্রমিক। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগমের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে বসবাস। সংসারের হাল ধরতে তিনি গৃহকর্মীর কাজও করেন। বড়ো ছেলে রুবেল(২২) দিনমজুর। যখন যে কাজ আসে তাই করেন। ছোট ছেলে মো: ফরহাদ (৭) স্থানীয় বাইতুন নূর মাদরাসায় নূরানি বিভাবে অধ্যয়নরত। মেয়েদ্বয় যথাক্রমে ফাহিমা(১৭) বিবাহিত ও হালিমা(৫)।
আন্দোলন ও শাহাদাত
৫ আগস্ট ২০২৪, রোজ সোমবার। খুনি হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনে সারাদেশে অসংখ্য মানুষ বিজয় মিছিলে অংশ গ্রহণ করে। তেমনি শহীদ জসীম বিকাল ৩.০০টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার ডাকা আন্দোলনে অংশ নিতে উত্তরার জসিম উদ্দিন রোড সংলগ্ন মোড়ে উপস্থিত হন। সেদিন ফ্যসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তার কুকর্মের অনুসারীদের রেখে যায়।
একপর্যায়ে বিজয় মিছিলকে প্রতিহত করতে রেজিম হাসিনার পালিত আইন-শৃঙ্খলার বিভিন্ন ঘাতক বাহিনীরা(পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার, সেনাবাহিনী) ও আওয়ামী সন্ত্রাস নেতাকর্মীরা উত্তরাসহ সারাদেশে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দুঃসাহস দেখায়। তারা দেশীয় ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে নিরিহ জনতার উপর নৃশংসভাবে গুলি চালায়। এলোপাথাড়ি ছোড়া সেসব গুলিতে সেদিন অনেকেই শাহাদাত বরণ করেন।
বিকাল ৩.৩০ মিনিট। মিছিলে স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন জসীম। হঠাৎ আওয়ামী পুলিশ ও যুবলীগের ছোড়া দুটি বুলেট বিকট শব্দে তার দুই পায়ের উরুতে এসে বিদ্ধ হয়। মূহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। রক্তে ভেসে যায় রাজপথ। প্রাথমিকভাবে প্রচণ্ড গুলি আর টিয়ারশেলের মুখে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এই লড়াকু সৈনিককে। পরবর্তীতে কিছুটা গোলাগুলি কমলে জসিমকে উদ্ধার করে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তখন হাজারও গুলিবিদ্ধ আহত বীরদের চিকিৎসা করছিলেন। এমতবস্থায় তারা দীর্ঘক্ষণ রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা চালায়। তবুও এই তেজস্বীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যা ৭.০০ টার দিকে হাসপাতালের বেডে চিকিৎসারত অবস্থায় নিজ পরিবার ও প্রিয় জন্মভুমিকে ছেড়ে শাহাদাতের শুধা পান করেন এই অমর যোদ্ধা।
পরদিন ৬ আগস্ট ২০২৪, মঙ্গলবার শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার মাটিয়াকুড়া নিজ গ্রামের মসজিদ প্রাঙ্গণে শহীদ জসীমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হয়।
শহীদ সম্পর্কে প্রতিবেশীর বক্তব্য:
শহীদ জসীমের প্রতিবেশী জনাব লোকমান শরীফ বলেন “শহীদ জসিম অত্যন্ত ভদ্র একজন মানুষ ছিলেন। কখনও কারো সাথে খারাপ আচরণ করতে দেখিনি। যখন যে কাজ পেরেছেন করেছেন। কারো ক্ষতি করেননি।”
একনজর বিবরণী
নাম : জসিম
পেশা : রিকশা চালক (ভাঁড়ায় চালিত)
জন্ম তারিখ : ০১ মার্চ, ১৯৮২, ৪১ বছর
জন্মস্থান: শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার মাটিয়াকুড়া গ্রাম
পিতা : মরহুম আবুল কাশেম
মাতা : সুরুজ বানু, বয়স ৭০ বছর, অসুস্থ পা ভাঙা
বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: পশ্চিম মোল্লারটেক, আশকোনা, থানা: দক্ষিণখান, জেলা: ঢাকা
স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: মাটিয়াকুড়া, উপজেলা: শ্রীবরদী, জেলা: শেরপুর
পরিবারের সদস্য : ৯ জন (প্রথম পরিবারে: স্ত্রী ও ২ ছেলে; দ্বিতীয় পরিবারে- স্ত্রী ও ৪ সন্তান ও বৃদ্ধা মা)
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ :
প্রথম স্ত্রী: মোসা: উশেদা বেগম, পেশা: গৃহিণী, সন্তান : ২ জন (ছেলে)
১. মো: রাসেল মিয়া, বয়স: ২৮, পেশা: শ্রমিক
২. আকাশ মিয়া, বয়স: ২৫, পেশা: শ্রমিক
দ্বিতীয় স্ত্রী : ফরিদা বেগম, পেশা: গৃহকর্মী, সন্তান : ৪ জন (২ ছেলে ও ২ মেয়ে)
১. মো: রুবেল, বয়স: ২২ বছর, পেশা: শ্রমিক
২. মো: ফরহাদ, বয়স: ৭ বছর, শ্রেণি: নূরানী, প্রতিষ্ঠান: বাইতুন নূর মাদ্রাসা
৩. মোসা: ফাহিমা, বয়স: ১৭ বছর, বিবাহিত
৪. মোসা: হালিমা, বয়স: ৫ বছর
শাহাদাতের চিত্র
আহত হওয়ার তারিখ: ৫ আগস্ট ২০২৪, সোমবার, বিকাল ৩.৩০ মিনিট
আক্রমণকারী: ঘাতক পুলিশ ও যুবলীগ বাহিনী
শাহাদাতের তারিখ ও স্থান: ৫ আগস্ট ২০২৪, সন্ধ্যা ৭.০০টা, উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, ঢাকা
দাফন-কাফন: মাটিয়াকুড়া, শ্রীবরদী, শেরপুর (পারিবারিক কবরস্থান)কুরআনের আয়াততারা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও সন্তুষ্টি লাভ করবে এবং তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জান্নাত। (সুরা আল-ইমরান ৩:১৫)হাদীস শরীফহজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শহীদদের আত্মা সবুজ পাখির পেটে থাকে।” (সহীহ মুসলিম ১৮৮৭)
Photographs (8)
Compiled from the public July Sohid memorial register, cross-checked against the JRABD register.