Skip to the archive
July Diary
Search the archive
Portrait of জামসেদুর রহমান জুয়েল

জামসেদুর রহমান জুয়েল

শহীদ ৫ আগস্ট ২০২৪ · ছাত্র

Killed

Killed
৫ আগস্ট ২০২৪ (2024-08-05)
Occupation
ছাত্র
Where
চৌদ্দগ্রাম থানার সামনে
Division
চট্টগ্রাম

জীবনী

নাম জামসেদুর রহমান। ডাকনাম জুয়েল। সবাই তাকে জুয়েল নামেই ডাকে। পিতার নাম শাহজালাল। তিনি একজন দিনমজুর কৃষক। মায়ের নাম সালেহা বেগম। তিনি একজন গৃহিনী। শহীদ জামসেদুর রহমান ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০২ সালে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার খিরনশাল ইউনিয়নের ফেলনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হত দরিদ্র পরিবারে থেকে বেড়ে ওঠেন। তিনি ছোট বেলা থেকে তার নিজ গ্রামে বেড়ে উঠেন। গ্রামের সবুজ শ্যামল মায়াবী পরিবেশ তার চরিত্রের উপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট হওয়ায় সবার আদর সোহাগের কেন্দ্র বিন্দু ছিলেন তিনি। স্বভাব চরিত্রে যে কারো মন জয় করার মতো ছিলেন জুয়েল। তিনি পড়াশোনায় ও ছিলেন বেশ মনোযোগী।শিক্ষা জীবন

শহীদ জামসেদুর রহমান জুয়েল এর পড়াশোনার হাতেখড়ি হয় তার নিজগ্রামে। গ্রামের প্রাইমারী স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শেষ করে ভর্তি হন ফেলনা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এখান থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন তিনি । ২০১৪ সালে চৌদ্দগ্রাম মডেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ ৪.৭৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। শাহাদাত বরণকালীন পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা সরকারি কলেজের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সম্মান ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন।

পটভূমি

২০১৮ সালে কোটা সংস্কারের জন্য চাকরি প্রত্যাশী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃত্বে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৪৬ বছর ধরে চলা কোটাব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা করে সরকার। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির কোটাব্যবস্থা বাতিল করে বাংলাদেশ সরকার একটি পরিপত্র জারি করে।

যেভাবে শহীদ হলেন

৫ আগষ্ট ২০২৪ সাল। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন। এদিন এ জাতির দীর্ঘ ১৬ বছরের জগদ্দল পাথরের শোচনীয় অপসারণ ঘটে। সারাদেশে মানুষ দিনটি উদযাপনের জন্য অলিতে গলিতে নেমে আসে। কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থানার সামনে বিকেল ৪ টায় বিজয় উদযাপন কালীন নিরীহ ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ অতর্কিত গুলিবর্ষণ করলে শহীদ জুয়েল গুলি বিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে দ্রুত স্থানীয় হাস্পাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা ভালো না দেখে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেলে রেফার করেন। কুমেক নেওয়ার পথেই দুনিয়ার সফর শেষ করে শহীদি কাফেলায় নাম লেখান শহীদ জামসেদুর রহমান জুয়েল।

কেমন আছে শহীদের পরিবার

শহীদ জামসেদুর রহমানকে হারিয়ে তার পরিবার এখন শোকে পাথর। মা তার ছোট ছেলেকে হারানোর ব্যাথা ভুলতেই পারছেনা। ছেলের কথা মনে পড়লেই কান্না জুড়িয়ে দেন আর বলেন, আমার ছেলেটা কি দোষ করছিল? তোমরা আমার ছেলেটাকে এনে দাও। আমার ছেলে আমাকে মা ডাকেনা কতদিন। দিনমজুর কৃষক বাবা বলেন, ছেলেকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। তারা আমার স্বপ্ন শেষ করে দিল। আমি আমার ছেলেকে যারা মেরেছে তাদের ফাঁসি চাই।

শহীদ সম্পর্কে ভাইয়ের অনুভূতি

ভাই জাহিদুর রহমান বলেন, আমার ভাই অত্যন্ত সহজ সরল একজন ছাত্র ছিল। সে সবসময় সত্যপন্থী ছিল। আন্দোলনের শুরু থেকে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিল সে। পড়াশোনায় খুবই মনোযোগী ছিল। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।

সাহসী তরুণ শহীদ জামসেদ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচিতে সাহসিকতার নজির স্থাপন করেন শহীদ জামসেদুর রহমান জুয়েল। কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম এলাকায় প্রতিদিনের কর্মসূচিতে দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। পুলিশ ও আওয়ামীলীগ এর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেন । এলাকাবাসী তার এই সাহসী নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।

পারিবারিক অবস্থা

শহীদের পিতা একজন দিনমজুর কৃষক। বড় ছেলে সৌদি প্রবাসী। পরেরজন পড়াশোনা শেষ করেছে। এখনো কোন চাকুরিতে যোগ দেয়নি। তাদের গ্রামে একটি টিনের বাড়ি ও অল্প ভিটাজমি আছে।

অর্থনৈতিকভাবে জুয়েলের পরিবার মধ্যবিত্ত। শহীদের পিতা একজন দিনমজুর কৃষক। ৩ ছেলে নিয়ে ৫ জনের পরিবার তার। বড় ছেলে বেকার। ছোট ছেলে সৌদি প্রবাসী। আর্থিকভাবে অত্যন্ত অসচ্ছল পরিবারটি। কোন রকম মানবেতর দিন পার করছে শহীদ জুয়েলের পরিবার।

এক নজরে শহীদ জামসেদুর রহমান জুয়েল

নাম : জামসেদুর রহমান জুয়েল

পেশা : ছাত্র

জন্ম তারিখ ও বয়স : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০২ সাল, ২২ বছর

আহত হওয়ার তারিখ : ০৫ আগষ্ট ২০২৪ সাল

নিহত হওয়ার তারিখ সময় ও স্থান : ০৫ আগষ্ট ২০২৪, চৌদ্দগ্রাম থানার সামনে

শাহাদাত বরণের স্থান : চৌদ্দগ্রাম থানার সামনে

দাফন করা হয় : নিজগ্রামে

কবরের জিপিএস লোকেশন : ২৩ক্ক১৩'১৪.১"ঘ ৯১ক্ক১৬'৫৯.৮"ঊ

স্থায়ী ঠিকানা : পূর্ব পাড়া, ফেলনা, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা

পিতা : শাহ জালাল

মাতা : সালেহা বেগম

ভাইবোনের বিবরণ : দুই ভাই। ছোটভাই সৌদি প্রবাসী। বড় ভাই বেকার

প্রস্তাবনা ১.বড় ভাইয়ের একটি ভালো চাকুরির ব্যবস্থা করা

২.পরিবারকে এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান করাকুরআনের আয়াতযারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদের জন্য রয়েছে মহান পুরস্কার। (সুরা মুহাম্মদ ৪৭:৪)হাদীস শরীফহজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শহীদদের আত্মা সবুজ পাখির পেটে থাকে।” (সহীহ মুসলিম ১৮৮৭)

Photographs (6)

Compiled from the public July Sohid memorial register.