Skip to the archive
July Diary
Search the archive
Portrait of মো: শাহরিয়ার আল আফরোজ শ্রাবন

মো: শাহরিয়ার আল আফরোজ শ্রাবন

শহীদ ৫ আগস্ট ২০২৪ · ছাত্র

Killed

Killed
৫ আগস্ট ২০২৪ (2024-08-05)
Occupation
ছাত্র
Studied at
ড্যাফডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটি, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
Where
লালমনিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনে, আওয়ামীলীগ নেতার বাড়ি
Village
খাতাপাড়া মাজার
Thana
আদিতমারী
District
লালমনিরহাট
Division
রংপুর

জীবনী

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যে ২য় স্বাধীনতা লাভ করেছিল তার নায়কদের মধ্যে সিপাহ সালার অন্যতম এক শহীদ শ্রাবন। এই বিপ্লবী তরুণ ২০০৫ সালে লালমনিরহাট জেলার খাতাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জনাব মো: সাইদুর রহমান এবং মাতার নাম মোসা: আফরোজা খানম। তাঁর পিতা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। শহীদ শাহরিয়ার আল আফরোজ শ্রাবন ড্যাফডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন।

শ্রাবন রাত দিন সব সময় স্বপ্ন দেখতো বৈষম্যবিরোধী একটি সমাজের, একটি সুন্দর আগামীর। কিন্তু মানবতার দুশমন, স্বৈরাচার হাসিনা সরকার সমাজের প্রতিটি পরতে পরতে এই বৈষম্যের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

তাই জাতীকে মুক্তি দিতে শ্রাবনেরা জেগে ছিলো দিন রাত। তাদের বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বাংলাদেশের রাজপথ। আর এ রক্ত দিয়েই আসে এই স্বাধীনতা। যুগে যুগে জাতির এই সূর্য সৈনিকেরা জেগে উঠে আলোকবর্তিকা হয়ে। কখনো রফিক, জব্বার হয়ে কখনো মতিউর হয়ে কখনো বা নুর হোসেন হয়ে আবার কখনও বা সাইদ মুগ্ধ হয়ে ঘাতকের সামনে বুক পেতে দেয় দেশের জন্য।

পারিবারিক অবস্থা

শহীদ শাহরিয়ার আল শ্রাবনের জন্ম একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে। তাঁর বাবা একজন ব্যবসায়ী এবং মা একজন গৃহিণী। তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। তাঁর ছোট ভাই মাহিয়ান আল আফরোজ এইচএসসি তে অধ্যয়নরত এবং ছোট বোন মেশকাতুল জান্নাত মেঘলা ২য় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। বাবা-মা ভাই-বোনদের সাথে আনন্দেই কাটছিল তাদের গোছানো সংসার। হঠাৎ শ্রাবনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ঢেউ বইছে।

শহীদ হওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনা

কতটা নির্মম ও কতোটা পৈশাচিক ছিল শ্রাবনের শাহাদাত যা শুনলে একজন মানুষ স্বাভাবিক থাকতে পারবেনা।

০৫ আগষ্ট বিজয় আনন্দে শ্রাবন বের হয়েছির রাজপথে। আনন্দ করছিল বন্ধুদের সাথে, সেখানে থেকে কে বা কারা তাকে তুলে নিয়ে যায় আওয়ামীলীগের নেতা সুমন খানের সুরম্য অবৈধ টাকায় অর্জিত প্রাসাদে। সেখানে তাকে ৩য় তলায় বিশেষ লক সিস্টেমের দরজা ওয়ালা রুমে আটকে রেখে পরে চারদিকে আগুন ধরিয়ে দিলে মূহুর্তেই শ্রাবন সহ সাথে থাকা ৫ জন পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। চারদিক থেকে যখন আগুন জ্বলে উঠে ভিতর থেকে তারা চিল্লাতে থাকে। কিন্তু কে শোনে তাদের আর্তনাদ। জীবন্ত মানুষ আগুনের তাপে শরীরের রক্ত মাংস গলে গলে পড়তে থাকে। তাদের দেহের কোন অংশ আর অবশিষ্ট থাকে না। আগুনে পুড়ে একদম ছাই হয়ে যায়। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মানুষকে কাদায়।

আনন্দ মিছিল শেষে সবাই বাড়ি ফিরলেও ফিরে আসে না শ্রাবন, সবাই অপেক্ষা করতে থাকে কখন আসবে শ্রাবন। আজ ওর জন্য সবচাইতে আনন্দের দিন। কিন্তু রাত যত বাড়তে থাকে, দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু শ্রাবনের দেখা নেই। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও কোথাও শ্রাবনকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর একে একে চারদিকে ফোন করা, ফেসবুকে দেয়া কিন্তু কোথাও কোন সাড়া নেই। অবশেষে রাত ১১ টার সময় খবর আসে সুমন খানের বাসা থেকে লাশ পাওয়া গেছে ৬ জনের । সবাই তখন সদ্য আগুনে পুড়ে যাওয়া সেই বাড়ির কাছে যান এবং সেনাবাহিনীর সহযোগীতায় এক এক করে ৬ জনের পুড়ে যাওয়া বীভৎস দেহ বের করে আনা হয়। নেয়া হয় থানায়। পরদিন থানায় গিয়ে পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরে প্রশাসন দাফনের জন্য মৃত দেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে মমতাময়ী মা শোকে কাতর হয়ে পড়েন।

পরিবার ও সাধারণ মানুষ এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায় এবং হত্যার জন্য যারা দায়ী তাদের বিচারের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবী জানান।

শহীদ সম্পর্কে নিকটাত্মীয়দের বক্তব্য

শহীদ সম্পর্কে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আমাদের সকলের আদরের সন্তান ছিল শ্রাবন। ছোট বেলা থেকেই শ্রাবন ছিল খুবই ভদ্র, নমনীয়, আদব কায়দা সম্পন্ন ছেলে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সে কখনো আপোস করে নাই। এলাকার সবার সাথে সে মিলে মিশে চলতো। আমরা সবাই তাঁকে অনেক ভালোবাসতাম।

তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কেউ ভাবতেই পারেনি এত অল্প বয়সে শ্রাবনকে হারাতে হবে। তাঁর জন্য দোআ করেছেন সবাই। এলাকাবাসী তাঁর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।

এক নজরে শহীদের ব্যক্তিগত তথ্য

নাম : মো: শাহরিয়ার আল আফরোজ শ্রাবন

পেশা : ছাত্র

প্রতিষ্ঠান : ড্যাফডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটি, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

জন্ম তারিখ : ২৯.১২.২০০৫

বয়স : ১৯ বছর

পিতা : জনাব মো: সাইদুর রহমান

মাতা : মোসা: আফরোজা খানম

আহত হওয়ার তারিখ : ৫ আগস্ট ২০২৪, আনুমানিক বিকের ৪ : ৩০ মি:, আগুনে দগ্ধ হয়ে

স্থান : লালমনিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনে, আওয়ামীলীগ নেতার বাড়ি

শাহাদাতের তারিখ : ৫ আগস্ট ২০২৪, ৪ : ৩০ থেকে ৬ টার মধ্যে

স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা : গ্রাম: খাতাপাড়া মাজার, ইউনিয়ন: সাপ্টিবাড়ি থানা: আদিতমারী জেলা: লালমনিরহাট

প্রস্তাবনা :

১.শহীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান

২.পরিবারকে এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান

৩.ছোট ভাই বোনের শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে পড়াশুনায় সাহায্য করাকুরআনের আয়াততারা তাদের রবের কাছে যা দিয়েছেন তাতে খুশি, এবং যারা তাদের পিছনে আসবে তাদের জন্যও তারা আনন্দিত। (সুরা আলে ইমরান ৩:১৭০)হাদীস শরীফরাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শহীদদের জন্য জান্নাতে ৭০ জন আত্মীয়কে সুপারিশ করার অধিকার থাকবে।” (সুনান আবু দাউদ ২৫২০)

Photographs (1)

Compiled from the public July Sohid memorial register.