Skip to the archive
July Diary
Search the archive
Portrait of মো: শাকিবুল হাসান সাজু

মো: শাকিবুল হাসান সাজু

শহীদ ৫ আগস্ট ২০২৪ · শিক্ষার্থী ও দোকানের কর্মচারী

Killed

Killed
৫ আগস্ট ২০২৪ (2024-08-05)
Occupation
শিক্ষার্থী ও দোকানের কর্মচারী
Where
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, মাওনা, গাজীপুর
Village
নয়াপাড়া
Thana
নান্দাইল
District
ময়মনসিংহ
Division
ময়মনসিংহ

জীবনী

শহীদ সাজু ছিলেন তিন ভাই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। সহজেই মানুষের সাথে মিশে যেতে পারতেন। বড়দের সম্মান ও ছোটোদের স্নেহ করতেন। হাস্যোজ্জ্বল এই ছেলেটিকে সবাই পছন্দ করত। শহীদ সাজু ১৫ পারার হাফেজ ছিলেন। পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হবার কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি দোকানে কাজ করতেন। বড় বোন খুকুমণি মাত্র ১৭ বছর বয়সেই কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেন। তাদের ৭ বছর বয়সি ছোট্ট একটি বোনও আছে। ৫ সদস্যের এই পরিবারটি গাজীপুরের মাওনাতে মাত্র ২২০০ টাকা ভাড়ার একটি বাসায় থাকেন। বাবা, বোন ও সাজুর আয়ের মাধ্যমেই পরিবারটি চলছিল। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পেটোয়া বাহিনী তাদের একজনকে কেড়ে নিয়েছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে হয়ে গেছে ৪।

ঘটনার বিবরণ

সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলন শুরু হলে নিজেকে ঘরে আটকে রাখতে পারেননি সাজু। পরিবারের ব্যাপক বাধা সত্ত্বেও লুকিয়ে আন্দোলনে যোগ দিতেন। প্রতিদিনই আন্দোলন চলছিল। দিনটি ছিল আগস্টের ৫ তারিখ। কাউকে না জানিয়ে সেদিনও মিছিলে যোগ দেন সাজু। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আন্দোলন চলছিল। ৫ আগস্ট দুপুরে গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। সারাদেশে তখন চলছিল জনতার উচ্ছ্বাস। তবে কয়েকটি স্থানে স্বৈরাচার পতনের পরও ঘাতক পুলিশ নিরীহ-নিরস্ত্র মুক্তিকামী জনতার ওপর গুলি করে; যেন পালিয়ে যাওয়া হাসিনার প্রেতাত্মা তাদের উপর ভর করেছিল। তেমনি একটি স্থান ছিল গাজীপুর। বিকেল ৫ টার দিকে বিজয়োল্লাসরত ছাত্র-জনতার ওপর বিকট শব্দে টিয়ারশেল ও মুহুর্মুহু গুলি ছুঁড়তে থাকে পুলিশ। একটি গুলি এসে আঘাত করে শহীদ সাজুর শরীরে। ছোট্ট শরীরটিকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয় ঘাতকের বুলেট।

শহীদ সাজুর পরিবার ঘটনাটি জানতে পারেন সন্ধ্যা ৬ টায়। দিশেহারা হয়ে ছুটে যান শহীদ সাজুর পিতা মো: খোকন মিয়া। দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে অটোরিকশা ঠিক করেন। শ্রীপুর হাসপাতাল থেকে মাওনা নেওয়ার পথে ছেলের শরীরে হাত দেন তিনি। শরীর একেবারে ঠান্ডা দেখে বুঝতে আর বাকি থাকে না- তার প্রিয় সন্তান আর তার কাছে নেই। শহীদ সাজুর বয়স হয়েছিল মাত্র ১৫ বছর। সম্ভবনাময় এই তরুণ চব্বিশের আন্দোলনের একজন সৈনিক ছিলেন। নিজের জীবন দিয়ে রেখে গেলেন দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার স্বাক্ষর।

ছেলের লাশ দেখে মা মোসা: হোসনা বেগম বাকরুদ্ধ হয়ে যান। দাদা মো: আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ও সবার সাথে ভালো ব্যবহার করত। সবাইকে সালাম দিত।” এ রকম সহজ-সরল নাতীকে কীভাবে হত্যা করতে পারে এটাই তার প্রশ্ন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা শোকে বিহব্বল। ছেলের খুনির বিচার চান তিনি।

শহীদ সাজুর লাশ তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নয়াপাড়ায় নেওয়া হয়। জানাজা শেষে তাকে সেখানেই সমাহিত করা হয়।

শহীদ সাজুকে হারিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শহীদের হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন ছিল। স্বপ্নটা অধরাই থেকে গেল। এলাকার বাসিন্দারাও তার মৃত্যুতে স্তম্ভিত। এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার চান তারা।

প্রস্তাবনা

১. বাসস্থান প্রয়োজন।

২. বাবার জন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে দিলে উপকার হবে।

৩. বোনদের লেখা-পড়ার খরচ যোগানে সহগযোগিতা করা যেতে পারে।

৪. শহীদের বড় বোনের বিয়ের ব্যবস্থা করা দরকার।

এক নজরে শহীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

নাম : মো: শাকিবুল হাসান সাজু

জন্ম তারিখ : ২৫.১২.২০০৯

জন্মস্থান : ময়মনসিংহ

পেশা : শিক্ষার্থী ও দোকানের কর্মচারী

আহত হবার স্থান : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, মাওনা, গাজীপুর

শহীদ হবার স্থান : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, মাওনা, গাজীপুর

আঘাতের ধরন : গুলি বিদ্ধ

আক্রমণকারী : পুলিশ

আহত হবার তারিখ ও সময় : ৫ আগস্ট, ২০২৪, বিকেল ৫টায়

শহীদ হবার তারিখ ও সময় : ০৫ আগস্ট, ২০২৪, বিকেল ৫টায়

শহীদের কবরস্থান (জিপিএস লোকেশনসহ) : নয়াপাড়া, নান্দাইল, ময়মনসিংহ ৯০.৭৪১৮৫, ২৪.৫৭১৬৩

স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: নয়াপাড়া, ইউনিয়ন: মুশুলী, থানা: নান্দাইল, জেলা: ময়মনসিংহ

বর্তমান ঠিকানা : মহল্লা: মাওনা, থানা: শ্রীপুর, জেলা: গাজীপুর

পরিবারসংক্রান্ত তথ্য

পিতা : মো: খোকন মিয়া

পিতার পেশা ও বয়স : রাজমিস্ত্রী শ্রমিক মাওনা, ৪৫

মাতা : মোসা: হোসনা বেগম

মাতার পেশা : গৃহিণী

মাসিক আয় : ১০,০০০/= (ছেলেসহ)

আয়ের উৎস : বাবা, ছেলে ও বড় মেয়ে

শহীদের সাথে সম্পর্ক : বাবা

পরিবারের বর্তমান সদস্য সংখ্যা : ৪ জন

বোন : খুকু মনি

বয়স ও পেশা : ১৭, গার্মেন্টস কর্মী

বোন : যাওদা

বয়স : ৭ বছরকুরআনের আয়াতনিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের প্রাণ ও ধন-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করেছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, মারে ও মরে। (সুরা তাওবা ৯:১১১)হাদীস শরীফরাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শহীদদের জন্য জান্নাতে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।” (সহীহ বুখারী ২৮০০)

Photographs (5)

Compiled from the public July Sohid memorial register.