Skip to the archive
July Diary
Search the archive
Portrait of মো: শাহজাহান

মো: শাহজাহান

শহীদ ২৩ জুলাই ২০২৪ · শ্রমিক, কার্টন ফ্যাক্টরি, মহাখালী

Killed

Killed
২৩ জুলাই ২০২৪ (2024-07-23)
Occupation
শ্রমিক, কার্টন ফ্যাক্টরি, মহাখালী
Where
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
Village
ভালুকাপাড়া
Thana
ধোপাউড়া
District
ময়মনসিংহ
Division
ময়মনসিংহ

জীবনী

শহীদ মো: শাহজাহান ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ঘোষগাঁও ইউনিয়নের ভালুকাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পিতা মোহাম্মদ মিল্লাদ হোসেন এবং মা মোসা: সাজেদা খাতুন (৪০)। শহীদ শাহজাহান মহাখালীতে কার্টন ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মধ্যে ১৯ জুলাই দুপুরে বাসা থেকে খাবার খেয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত একটার দিকে শাহাদাত বরণ করেন।

শাহাদতের প্রেক্ষাপট

প্রত্যেক জাতির জীবনে দু'একটি স্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিন থাকে। তেমনি বাংলাদেশীদের জাতীয় জীবনে এক নতুন সংযোজিত স্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিন "জুলাই বিপ্লব ২০২৪"।ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় কীর্তিগাঁথা সম্বলিত বিপ্লব অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকা ফরাসি বিপ্লব কিংবা বলশেভিক বিপ্লব, সব বিপ্লবী সাধারণ জনগণের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের অগ্নিমূল্য, শাসকগোষ্ঠীর ব্যাপক দমন- পীড়নমূলক আচরণ, বাক স্বাধীনতা হরণ প্রভৃতি কারণে উপরোক্ত বিপ্লবগুলা সংঘটিত হয়েছিল। বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবেও একই ধরনের কারণ প্রকটভাবে দেখা দিয়েছিল ছিল। খুনি হাসিনার স্বৈর প্রশাসন পুরো দেশে ভয় এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই দুর্বিষহ অবস্থার অবসানের জন্যই পুরো জুলাই উত্তাল ছিল আন্দোলন সংগ্রামে। ১৯ জুলাই, এই উত্তাল দিনে দুপুরে বাসা থেকে খাবার খেয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন শাহজাহান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১ টার দিকে তিনি মারা যান। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের তথ্যানুযায়ী শাহজাহানের বুকের মাঝবরাবর একটু নিচে দুটি এবং বাম হাতের কব্জির উপরিভাগে একটি গুলি লেগেছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর অপারেশেনের সময় ৩০ টি সেলাই দিতে হয় তাকে। পিঠের বাম পাশের নিচে কয়েকটি ছিদ্র রয়েছে।

লাশ পেতে ভোগান্তি

১৯ জুলাই দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হতে এখনো বেশ কয়েক দিন দেরি ছিল। সর্বত্র অবস্থান করছিল খুনি হাসিনা সরকারের পাচাটা প্রশাসন। সন্তানের গুলিবিদ্ধ হবার কথা শুনে ধোপাউড়া থেকে ছুটে আসেন মা সাজেদা বেগম। আশা করছিলেন সুস্থ ছেলেকে নিয়ে ছাড়বেন অভিশপ্ত শহর কিন্তু ছেলের লাশ ফিরে পেতেও তাকে কম ভোগান্তির শিকার হতে হয়নি। শোকাহত পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর ৪১ ঘন্টা পর সন্তানের লাশ পেয়েছেন তারা। ঘুরতে হয়েছে শাহবাগ, তেজগাঁও ও বনানী থানা। তাদের ভাষ্যমতে,' শুধু একবার নয়, ময়নাতদন্তের পরে সাত চক্কর শেষে মেলে লাশ।' শহীদ শাহজাহানের মায়ের সঙ্গে আসা এক স্বজন জানান মৃত্যুর পরদিন বুধবার সকাল ৯ টার দিকে শাহবাগ থানায় জিডি শেষে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে তিন-চার ঘন্টা বসিয়ে রেখে বনানী থানা পাঠায়। বনানী থানা থেকে দুইটার দিকে পাঠানো হয় তেজগাঁও থানায়। সেখান থেকে আবারো বনানী থানায় যেতে বলা হয়। বনানী থানায় গেলে এক এসআই সেই স্বজনের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন । তিনি কাগজপত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফাঁড়িতে রেখে রাত আটটার দিকে চলে যান এবং শাহবাগ থানায় যোগাযোগ করতে বলেন। রাতেই স্বজনরা শাহবাগ থানায় গেলে পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে বনানী থানায় যেতে পরামর্শ দেয় শাহবাগ। এই পর্যায়ে বনানী গেলে তারা আবারও শাহবাগ থানায় যেতে বলেন। এখানে আসার পরে শাহবাগ থানার ওসি বলেন আপনাদের কাজ হয়ে গেছে, আপনারা ঢাকা মেডিকেল কলেজে চলে যান। এখানে তারা দেখতে পান তাদের সন্তানের লাশ দেওয়ার জন্য কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। শহীদের স্বজনের দাবি লাশ নিতে বুধবার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছিলেন তারা, সারাদিন বসে রেখে ৬০০০ টাকা দিতে হয় তাদের। বৃহস্পতিবারও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয় নতুনভাবে। গোসল শেষে দাফনের জন্য প্রস্তুত করে বৃহস্পতিবার সাড়ে পাঁচটায় গ্রামের পথে রওনা দেয় শাহজাহানের লাশবাহী গাড়ি। ধোপাউড়ার ভালুকাপাড়া, গ্রামের বাড়ি নিয়ে রাতেই লাশ দাফন করেন স্বজনেরা।

শহীদের মৃত্যুর পর বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতিক্রিয়া

সন্তানের লাশের পাশে বসে মা সাজেদা বেগম কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, "গুলি আমার সব স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। লাশ পেতেও প্রতিমুহূর্তে যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে। এমন ভোগান্তি যেন শত্রুকেও পোহাতে না হয়।"

শহীদ পরিবারের বিশেষ তথ্য

শহীদ মো: শাহজাহান মহাখালীতে কার্টন ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ডিভোর্সী মা পরে আবার বিয়ে করেছেন। আর্থিক অবস্থা তেমন সচ্ছল নয়। শহীদ শাহজাহান মায়ের কাছে কিছু কিছু করে টাকা পাঠাতেন।

শহীদ পরিবারের জন্য করণীয়

১. শহীদের পরিবারকে এককালীন সহায়তা করা প্রয়োজন।

এক নজরে শহীদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলি

নাম : মো: শাহজাহান

জন্ম তারিখ : ২১ ডিসেম্বর ২০০৩

পিতার নাম : মো: মিল্লাদ হোসেন

মাতার নাম : মোসা: সাজেদা খাতুন (৪০)

স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: ভালুকাপাড়া, ইউনিয়ন: ঘোষগাঁও, থানা: ধোপাউড়া, জেলা: ময়মনসিংহ

বর্তমান ঠিকানা : ভালুকাপাড়া, ঘোষগাঁও, ধোপাউড়া, ময়মনসিংহ

আহত হওয়ার স্থান : মহাখালী, ঢাকা

আহত হওয়ার সময় কাল : ১৯ জুলাই, ২০২৪

শহীদ হওয়ার সময় ও স্থান : ২৩ জুলাই, ২০২৪, রাত ১২টা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

যাদের আঘাতে শহীদ : পুলিশের গুলি

শহীদের কবরস্থান : ভালুকাপাড়া, ঘোষগাঁও, ধোপাউড়া, ময়মনসিংহকুরআনের আয়াততাদের প্রতিদান তাদের রবের কাছে রয়েছে, জান্নাত, যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। (সুরা আল-ইমরান ৩:১৪৭)হাদীস শরীফহজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শহীদদের আত্মা সবুজ পাখির পেটে থাকে।” (সহীহ মুসলিম ১৮৮৭)

Photographs (5)

Compiled from the public July Sohid memorial register.