Skip to the archive
July Diary
Search the archive
Portrait of ওয়াসিম

ওয়াসিম

শহীদ ১৯ জুলাই ২০২৪ · মুদি দোকান কর্মচারী শহাদাতের

Killed

Killed
১৯ জুলাই ২০২৪ (2024-07-19)
Occupation
মুদি দোকান কর্মচারী শহাদাতের
Division
সিলেট

জীবনী

শহিদ ওয়াসিম ২০০৬ সালে সিলেটের জালালাবাদ উপজেলার ইনাতাবাদ ইউনিয়নের কান্দিগাও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কনর আলী ও মাতার নাম কল্পনা আক্তার। মাত্র ৫ বছর বয়সে শহীদ ওয়াসিমের মা মারা যান। তার পিতা অন্যত্র বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। সেই থেকে একমাত্র বোনের কাছেই লালিতপালিত হন তিনি। বোনের অভাবের সংসার। একারণে অনন্যোপায় হয়ে পাড়ি জমান ঢাকা শহরে। ঢাকার বাড্ডায় ছোট একটি বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বোনের স্বামী ওয়েল্ডিং এর কাজ করতেন এবং তিনি অন্যদের বাসায় ঝিয়ের কাজ করতেন। অভাবী বোনের সংসারে পড়াশোনা শুরু করা হয়নি ওয়াসিমের। বোনকে সহযোগিতা করতে মুদির দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। বিগত কয়েকবছর ধরেই তিনি এ কাজ করে আসছেন।

পারিবারিক আর্থিক অবস্থান

শহিদ ওয়াসিমের মা মারা যাওয়ার পর থেকে তার বাবা তাদের কোনো খোঁজখবর নিতেন না। তাই নিজ এলাকায় থাকতে না পেরে বোনের সাথে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। বোনের অভাবের সংসারেই তার জীবন চলতে থাকে। বাধ্য হয়ে জীবীকার পথ বেছে নেন তিনি। তার স্বল্প আয়ে কোনোরকমে দিন চলতো। তাই নিজেদের স্থায়ী কোনো জমিজমা কিংবা বাড়িঘর করার সুযোগ ছিলো না তার। বাবার আর্থিক অবস্থান কিছুটা ভালো থাকলেও তার বোন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শাহাদাতের প্রেক্ষাপট

১৯ জুলাই ২০২৪ শুক্রবার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল সারাদেশ। সারাদেশে কয়েক শত ছাত্রজনতা নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা শহরেই শতাধিক মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ি, রামপুরা, বাড্ডা, সাভারসহ বেশ কিছু জায়গা ছিলো আন্দোলনের মূল হটস্পট। সেদিন দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ডিউটি শেষ করে বাসায় এসে গোসল করে দুপুরের খাবার খান ওয়াসিম। জুমার নামাজের পর বাসায় এসে ভাগিনার খোঁজ করেন তিনি। তাকে কোথাও না পেয়ে তার খোঁজে বাহিরে যান ওয়াসিম। বাসা থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সুবাস্ত ও শাহজাদপুরের মাঝামাঝি মেইন রোডে পুলিশের গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। গুলি মাথার একপাশ থেকে ভেদ করে অপর পাশে চলে যায়। মাথার খুলি থেকে মস্তিষ্ক আলাদা হয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়ে। প্রচুর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। তবুও সাধারণ ছাত্র-জনতা উদ্ধার করে প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে যায়। মূলত প্রাইভেট হাসপাতালগুলো আন্দোলনকারী কাউকে সেবা দেয়নি। কারণ স্বৈরাচার হাসিনার নির্দেশে সব জায়গায় পুলিশি পাহারা বসায়। ফলে পুলিশ সাধারণ জনগণকে চিকিৎসা সেবা নিতে দেয়নি। সেখানে তাকে ভর্তি না নেয়ায় পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছে দেয়। এদিকে স্থানীয় লোকজন তার পরিবারের লোকজনকে আহত হওয়ার বিষয়টি জানালে তারা অগত হাসপাতালে খোঁজ নেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করতে পেরে জানান যে, তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। সে কথা শুনে তার বোন ও ভগ্নীপতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল পৌঁছান। নিজের ভাইকে প্রত্যেকটা ওয়ার্ড ও বেডে সন্ধান করতে থাকেন। হাসপাতালে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিরা মর্গে খোঁজ নেয়ার পরামর্শ দেন। একথা শুনে বোনের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। বাধ্য হয়ে মর্গে খোঁজ নিয়ে একমাত্র ভাইয়ের রক্তাক্ত লাশ দেখে বাকহীন হয়ে পড়েন তার বোন। হাসপাতাল থেকে লাশ নিতে চাইলে কিছুতেই তারা লাশ দিতে রাজি হয়নি। অনেক বাকবিতন্ডার পর তারা ভাটারা থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ উলটা তাদেরকে গ্রেফতারের হুমকি দেয়। তাদেরকে মামলার ভয় দেখায়। শহিদ ওয়াসিম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থেকেই নাকি মারা গেছে তাই তার লাশ দেয়া যাবেনা বলে পরিস্কার জানিয়ে দেয় আওয়ামী পুলিশ। টানা চারদিন হাসপাতালের মর্গে ছোটাছুটি করে বহু কষ্টে একমাত্র ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। সেদিন রাতেই ট্রাক ভাড়া করে নিজ গ্রামে নিয়ে যান এবং সেখানেই তার দাফন সম্পন্ন হয়। ভাইয়ের শাহাদাতের পর তার বোন মানসিক ও শারিরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

একনজরে শহীদ সম্পর্কিত তথ্যাবলি

নাম : ওয়াসিম আহমদ

জন্ম : ২০০৬, কদিগাও, ইনাতাবাদ, জালালাাবাদ, সিলেট

পেশা : মুদির দোকানের কর্মচারী

পিতা : কনর আলী

মাতা : মৃত কল্পনা আক্তার

ভাই-বোন : বোন ১, শিপা বেগম (২৮) গৃহিনী

স্থায়ী ঠিকানা : এনাতাবাদ, ৯ নং ওয়ার্ড, কান্দিগাঁও, জালালাবাদ, সিলেট

বর্তমান ঠিকানা : এনাতাবাদ, ৯ নং ওয়ার্ড, কান্দিগাঁও, জালালাবাদ, সিলেট

ঘটনার স্থান : সুবাস্ত মেইন রোড, শাহজাদপুর সংলগ্ন, বাড্ডা

আক্রমণকারী : পুলিশ

আহত হওয়ার সময় : ১৯ জুলাই ২০২৪

আঘাতের ধরন : গুলিবিদ্ধ

মৃত্যুর তারিখ ও সময়, স্থান : ১৯ জুলাই ২০২৪, ঢামেক

শহীদের কবরের অবস্থান : নিজ গ্রাম

প্রস্তাবনা

১. বোনের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা

২. স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করাকুরআনের আয়াতআর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা উপলব্ধি করতে পার না। (সুরা আল-বাকারা ২:১৫৪)হাদীস শরীফহজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হতে চায়, আল্লাহ তাকে শহীদের সাওয়াব দেন।” (সহীহ মুসলিম ১৮৮৯)

Photographs (1)

Compiled from the public July Sohid memorial register.