শফিকুল ইসলাম শফিক
শহীদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
Killed
- Killed
- ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ (2025-12-31)
- Division
- ময়মনসিংহ
জীবনী
শহীদ শফিকুল ইসলাম শফিক ১৯৯০ সালে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার দর্শারপাড় এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল সামেদের আদর্শ ও পারিবারিক শিক্ষায় বেড়ে ওঠা শফিকুল ইসলাম শফিক শৈশব থেকেই ছিলেন শান্ত, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি পরিবারসহ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী পূর্ব এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সাধারণ জীবনযাপনের মধ্যেও তাঁর ভেতরে ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি গাজীপুর জেলার গেজেটভুক্ত(৭২২) একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।
আন্দোলনে অংশগ্রহণ
ছাত্র-জনতার জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান শফিকুল ইসলাম শফিকের জীবনে এক অনিবার্য দায়িত্ব হয়ে ওঠে। তিনি বিশ্বাস করতেন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরব থাকা অন্যায়ের পক্ষ নেওয়ার শামিল। সে বিশ্বাস থেকেই তিনি আন্দোলনে যুক্ত হন। রাজপথে তাঁর উপস্থিতি ছিল নির্ভীক ও দৃঢ়। তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে মানুষের অধিকারকে বড় করে দেখতেন। উত্তাল আন্দোলনের দিনগুলোতে জীবনঝুঁকি জেনেও তিনি প্রতিবাদের কণ্ঠে শরিক হন এবং গণমানুষের পাশে দাঁড়ান। টঙ্গী থেকে প্রতিদিন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে আসতেন উত্তরা এলাকায়। সেখানেই খুনি হাসিনার পতনের দিনে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
চিকিৎসা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে উত্তরা আজমপুর এলাকায় ঘাতক পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে তাঁর ডান পায়ের ঊরুতে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। সংক্রমণ, প্রচণ্ড ব্যথা ও শারীরিক জটিলতা তাঁর দৈনন্দিন জীবনে নেমে আসে। রাষ্ট্রীয়ভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি দৃঢ়ভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়- “মৃত্যু হলে দেশের মাটিতেই হবে। আমি দেশ ছেড়ে কোথাও যাব না।” এই বক্তব্যই তাঁর দেশপ্রেমের গভীরতা প্রকাশ করে।
যেভাবে তিনি শহীদ হলেন
২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর হঠাৎ জ্বর ও শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাঁকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলির স্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে নিউমোনিয়া ও জটিল সংক্রমণ তাঁর শরীরকে গ্রাস করে। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ৭টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আওয়ামী দোসরদের গুলিতে আহত হয়ে দীর্ঘ দেড় বছর চিকিৎসাধীন ভোগান্তি নিয়ে তিনি মহান মনিবের কাছে শহীদ হয়ে ফিরে গেলেন।
জানাজা ও দাফন
৩১ ডিসেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার দর্শারপাড় মামা পাগলা মাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সহযোদ্ধা ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভেজা সেই জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পুরো এলাকা নীরব কান্নায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
শহীদ সম্পর্কে অন্যান্যদের অভিমত
শহীদ শফিকুল ইসলাম শফিক ছিলেন জুলাই বিপ্লবের একজন সাহসী ও অবিচল যোদ্ধা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীনূর খান বলেন, দেশের জন্য তাঁর এই ত্যাগ জাতি আজীবন স্মরণ রাখবে। সমাজসেবক মাহফুজুর রহমান মুক্তার মতে, তিনি ছিলেন আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, যাঁর সাহস অন্যদের অনুপ্রাণিত করেছে। স্বজন ও সহযোদ্ধাদের কাছে শফিকুল ইসলাম শফিক আজও একজন নির্ভীক, দেশপ্রেমিক এবং আত্মত্যাগী মানুষ হিসেবে স্মরণীয়।
শফিকুলের ভগ্নিপতি শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গুলির স্থানে সংক্রমণ হলে শফিকুলের জ্বর আসে। চিকিৎসকরা আমাদেরকে জানিয়েছেন, সে নিউমোনিয়া ও সংক্রমণের কারণে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।
নাম: শহীদ শফিকুল ইসলাম শফিক
জন্ম: ১৯৯০ সাল
জন্মস্থান: দর্শারপাড়, হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ
পিতা: আব্দুল সামেদ
পরিচয়: গাজীপুর জেলার গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা(৭২২)
আহত হওয়ার তারিখ: ৫ আগস্ট ২০২৪
আহত হওয়ার স্থান: উত্তরা আজমপুর, ঢাকা
হত্যাকারী: উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানার ঘাতক পুলিশ বাহিনী
শাহাদাত: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ৭টা
স্থান: শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুর
জানাজা: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১০টা
জানাজার স্থান: মামা পাগলা মাজার মসজিদ প্রাঙ্গণ
দাফন: পারিবারিক কবরস্থান, দর্শারপাড়, হালুয়াঘাট
প্রামাণ্য নিউজ লিঙ্ক
১. https://youtu.be/3z8nZBVZdhI?si=qMglG9hFTiqhTh-O
২. https://www.somoynews.tv/news/2025-12-31/WMyyD15Mকুরআনের আয়াতযারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদের জন্য রয়েছে মহান পুরস্কার। (সুরা মুহাম্মদ ৪৭:৪)হাদীস শরীফহজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হতে চায়, আল্লাহ তাকে শহীদের সাওয়াব দেন।” (সহীহ মুসলিম ১৮৮৮)
Photographs (12)
Compiled from the public July Sohid memorial register.