Skip to the archive
July Diary
Search the archive
Portrait of গাজী সালাউদ্দীন

গাজী সালাউদ্দীন

শহীদ ২২ জুলাই ২০২৪ · দোকান কর্মচারী আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার

Killed

Killed
২২ জুলাই ২০২৪ (2024-07-22)
Occupation
দোকান কর্মচারী আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার
Where
নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল
Division
ঢাকা

জীবনী

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের অধিবাসী গাজী সালাউদ্দীন ছিলেন একজন দোকান কর্মচারী কিন্তু মননে ছিলেন ন্যায়পরায়ণ ও প্রতিবাদী। তিনি ১৯৭৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে গোদনাইলে পৈতৃক একতলা বাড়িতে বসবাস করতেন। তাঁর নাম অন্তর্বর্তী সরকারের গেজেটভুক্ত গুরুতর আহতদের তালিকায় ১৩২ নম্বরে স্থান পেয়েছিল।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত দিনগুলোতে যখন স্বৈরাচারী আওয়ামী খুনি হাসিনার ইন্ধনে তার দোসররা নির্বিচারে ছাত্রদের ওপর গুলি চালাচ্ছিল, তখন তিনি নীরব থাকতে পারেননি। একজন দোকান কর্মচারী সেই মুহূর্তে হয়ে ওঠেন রাজপথের যোদ্ধা। ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি আন্দোলনে যুক্ত হন, দাঁড়িয়ে যান সম্মুখ সারিতে।

১৯ জুলাই ২০২৪ নারায়ণগঞ্জ শহর উত্তাল হয়ে উঠলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে গাজী সালাউদ্দীন গুলিবিদ্ধ হন। গুলির স্প্লিন্টারে তার ডান চোখ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায়, বাম চোখের দৃষ্টিশক্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুখ, গলা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। এর মধ্যে গলায় আটকে থাকা একটি স্প্লিন্টার ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। চিকিৎসকদের মতে, সেটি অপসারণ করা ছিল চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়, অস্ত্রোপচারও হয়। কিন্তু চোখের দৃষ্টি আর ফিরে আসেনি। দোকানের বেচাকেনা তো দূরের কথা, স্বাভাবিক চলাফেরাও হয়ে পড়ে কষ্টসাধ্য। দীর্ঘ সময় বেকার থেকে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন তিনি। পরে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় সিদ্ধিরগঞ্জে তার এলাকায় একটি মুদি দোকানের ব্যবস্থা করা হয়। নতুন করে জীবন শুরু করার আশায় দোকানটি পেলেও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি সেখানে নিয়মিত বসতে পারতেন না। বড় ছেলে আমির ফয়সাল রাতুলই দোকানটি দেখাশোনা করতেন।

আঘাতের ক্ষত শরীরে নিয়ে তিনি বেঁচে ছিলেন ঠিকই, কিন্তু গলায় আটকে থাকা স্প্লিন্টারটি নীরবে তার জীবন কেড়ে নিচ্ছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কথা বলা প্রায় নিষেধ করা হয়েছিল। কয়েকদিন ধরে তীব্র কাশি ও কাশির সঙ্গে রক্ত পড়ার ঘটনাও ঘটছিল। ২৬ অক্টোবর ২০২৫, রোববার সন্ধ্যার পর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে রাতের দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু জরুরি বিভাগেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আহত অবস্থায় বেঁচে ফিরেও অবশেষে শহীদের কাতারে যুক্ত হন গাজী সালাউদ্দীন।

২৭ অক্টোবর সোমবার সকাল দশটায় সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল বাজার এলাকায় জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

গাজী সালাউদ্দীনের ছেলে রাতুল বলেন, শুরুর দিকে ধার-দেনা করে বাবার চিকিৎসা চালাইছি। পরে সরকার পতনের পর নতুন সরকার সাহায্য-সহযোগিতা করল। কিন্তু তার চোখের দৃষ্টি আর উনি পাননি। গলার স্প্লিন্টারটাও তাকে অনেক ভোগাচ্ছিল। কাশির সঙ্গে তার রক্ত পড়তো, গলা ব্যথা করতো কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করলেই চেপে যেতেন। কাশির বেশি উঠলে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে তারপর কাশতেন। আমার বাবা সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ ছিলেন। দেশের জন্য জীবন দিলেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।

একজন দোকান কর্মচারী থেকে যোদ্ধা, যোদ্ধা থেকে শহীদ। গাজী সালাউদ্দীনের জীবন কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক জীবন্ত দলিল, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ অসাধারণ সাহস নিয়ে স্বৈরাচারের লাগাম টেনে ধরেন।

একনজরে শহীদ জুলাই যোদ্ধা গাজী সালাউদ্দীন

পূর্ণ নাম: গাজী সালাউদ্দীন

জন্ম : ১৯৭৭

ঠিকানা: সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

পেশা: দোকান কর্মচারী

আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কারণ: ছাত্রদের ওপর আওয়ামী রেজিমের নির্বিচার হত্যার প্রতিবাদ ও একাত্মতা প্রকাশ

আহত হওয়ার তারিখ: ১৯ জুলাই ২০২৪

আহতের ধরন: গুলির স্প্লিন্টারে ডান চোখ সম্পূর্ণ অন্ধ, বাম চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত; মুখ, গলা ও হাতে একাধিক স্প্লিন্টার

গুরুতর আঘাত: গলায় আটকে থাকা অপসারণ-অযোগ্য স্প্লিন্টার

চিকিৎসা: নারায়ণগঞ্জ হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার

মৃত্যুর কারণ: গলার স্প্লিন্টারজনিত শ্বাসকষ্টে মৃত্যু

শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ২৬ অক্টোবর, রোববার রাত

স্থান: নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল

জানাজা: ২৭ অক্টোবর, সোমবার সকাল ১০টা, গোদনাইল বাজার, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ

দাফন: স্থানীয় কবরস্থান, গোদনাইল

পারিবারিক অবস্থা: স্ত্রী(রানী বেগম) ও দুই সন্তান

সরকারি স্বীকৃতি: অন্তর্বর্তী সরকারের গেজেটভুক্ত অতি গুরুতর আহত (সিরিয়াল ১৩২)

পুনর্বাসন: জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সহায়তায় মুদি দোকান প্রদানকুরআনের আয়াতনিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের প্রাণ ও ধন-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করেছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, মারে ও মরে। (সুরা তাওবা ৯:১১১)হাদীস শরীফহজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হতে চায়, আল্লাহ তাকে শহীদের সাওয়াব দেন।” (সহীহ মুসলিম ১৮৮৮)

Photographs (8)

Compiled from the public July Sohid memorial register.